সমাজে প্রচলিত ১০টি মিথ্যা যা আপনারা সত্য বলে জানেন

সমাজে প্রচলিত ১০টি মিথ্যা

হ্যালো বন্ধুরা, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ছোটবেলা থেকে যেসব গল্প শুনে থাকি, সেসব আমরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে ফেলি সেটা কোন কুস্স্কার হওয়া সত্তেও। কিন্তু সত্য বলতে আমরা ছোট বেলা থেকেই যে গল্পগুলো শুনে থাকি তার বেশিরভাগই ভুল।

ছোট বেলা থেকে শুনতে শুনতে এসব গল্প আমরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে ফেলি অথচ বাস্বতে সেগুলো ভুল। কিন্তু আমাদের আজকের এই পোষ্টে আমরা আপনাদের জানাতে চলেছি এমনি কিছু মিথ্যা কথা যেগুলো আপনি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছেন সত্য হিসেবে।

আর এগুলোর প্রকৃত সত্যতা জানার পর, আজ থেকে আপনি এগুলো আর বিশ্বাসই করতে চাইবেন না। যদিও সত্যটাই আমরা জানাবো। তাহলো চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ১০টি মিথ্যা সম্পর্কে যেগুলো আমরা এতদিন সত্য বলে জেনে এসেছি:-

সেভ করা

আপনারা হয়তোবা শুনে থাকবেন বেশি বেশি শেভ করলে দাড়ি ঘন, কালো এবং মোটা হয়। এই কথাগুলো আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি। আর সেজন্য আমারা দাড়ি না ওঠা সত্তেও সেভ করে থাকি।

কিন্তু বন্ধুরা দাড়ি দ্রুত ঘনভাবে বেড় হওয়ার জন্য সেভ করার কোন প্রয়োজন নেই। দাড়ির কালো রং এবং ঘনত্ব নির্ভর করে আমাদের শারীরিক গ্রোথের উপরে। যার গ্রোথ যেমন হয় তার দাড়ি চুলও তেমনি হয়।

তাহলে বন্ধুরা মোটা, ঘন ও কালো দাড়ি গজানোর জন্য আজ থেকেই দাড়ি সেভ করে টাকা অপচয় করা বাদ দিয়ে দিন।

ব্যায়ামের পড় শরীর ব্যাথা হওয়া

আপনার হয়তো শুনে থাকবেন, ব্যায়ামের পড় যদি শরীরে ব্যাথার সৃষ্টি হয় তাহলে সেটা পারফেক্ট ব্যায়ম। এতে করে আমাদের শরীরের অনেক উপকার হয়। আর তাই ব্যায়ম করার করার সময় আমরা অতিরিক্ত ব্যায়াম করে থাকি।

কিন্তু বন্ধুরা ব্যায়াম করার পড় আমাদের শরীরে ব্যাথা হওয়ার কোনো প্রোয়োজন নেই। অতিরিক্ত ব্যায়্যামের ফলে আমাদের পেশিতে ব্যাথার সৃষ্টি হয়। আর এটা আমার দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তো বন্ধুরা এরপর যদি কখনো ব্যায়াম করে থাকেন তবে অরিরিক্ত ব্যায়ম করা থেকে বিরত থাকবেন।

টিভি দেখা

টিভি খুব কাছ থেকে দেখা কি আমাদের চোখের জন্য খুবই ক্ষতিকর? বেশির ভাগ মানুষই এটা মনে করে থাকে যে টিভি খুব কাছ থেকে দেখলে আমাদের চোখের ক্ষতি হয়। কিন্তু বন্ধুরা মানুষের এই ধারনাটির কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান নেই। এবং কোনো বিজ্ঞানিই আজ অব্দি টিভি খুব কাছ থেকে দেখার কোনো ক্ষতি সম্পর্কে খুজে পায়নি।

তবে খুব কাছ থেকে টিভি দেখা বাচ্চাদের জন্য খুবই খারাপ একটি অভ্যাস। আর তাই মা-বাবা এই অভ্যাস ত্যাগ করানোর জন্য খুব ছোট থেকেই এসব কথা বলে থাকে। কিন্তু মানুষ এগুলেকেই আজকে চোখের ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত করে ফেলেছে। আর এগুলোকেই এখন মানুষ সত্যি বলে মনে করেন অথচ এসবের বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমান নেই।

খাওয়া এবং ব্যায়াম

বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন ব্যায়াম করার সময় কোনো কিছু খাওয়া যাবে না। কিন্তু বন্ধুরা মানুষের এই ধারনা সম্পূর্ন ভুল। এমনকি অলিম্পিক গেমস্ এর জন্যও যারা প্রাকটিস করে থাকে তারাও তাদের অনুশীলনের সময় তাদের ডায়েট মেইন্টেইন করে থাকে।

তবে আপনি অনুশীলনের সময় কি খাচ্ছেন সেটা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। কারন এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগেো অনুশীলনে সময় খাওয়া যাবে না। আবার এমন কিছু খাবার রয়েছে যা অনুশীলনের সময় অবশ্যই খেতে হবে।

একই সাথে আমাদের অনুশীলনের সময়কার যে নিয়ম রয়েছে সেগুলো আমাদের অবশ্যই অনুসরন করা উচিত।

সাবান জীবানু ধ্বংস করে

আমরা বিভিন্ন সময় টিভিতে সাবানের বিজ্ঞাপন দেখে থাকি। আর এই বিজ্ঞাপন গুলোতে বলে থাকে যে সাবান ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। কিন্তু বন্ধুরা সাবান কোনো ভাবেই এ ধরনের জীবানুকে ধ্বংস করতে পারে না। তবে তারা পুরোপুরি ভাবেও মিথ্যা বলে না। সাবান আমাদের হাতে বা শরীরে থাকা জীবানুকে ওয়াস করতে পারে।

সাবান দিয়ে যদি শরীর ও হাত ওয়াস না করা হয় তবে, এগুলো আমাদের শরীরে নানা রকম রোগ ব্যাধি সৃষ্টি করে। অর্থ্যাৎ সাবান আমাদের হাতে থাকা রোগ জীবানুকে ঠিকই ওয়াস করতে পারে কিন্তু মারতে পারে না।

৮ ঘন্টা ঘুম

আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। কিন্তু বন্ধুরা এটা সম্পূর্ন একটি ভুল ধারনা। শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই ঘুমাতে হবে।

কিন্তু সবার জন্য একই পরিমান সময় ঘুমানোর কোনো প্রোয়োজন নেই। একেক মানুষের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ঘুমের চাহিদা একেক রকম হতে পারে।

উদাহরন স্বরুপ, একজন অসুস্থ মানুষকে অনেকটা সময় ধরে বিশ্রাম নিতে হবে। আবার একজন হেলদি বা টিনেজারের জন্য অল্প কয়েক ঘন্টা ঘুমই যথেষ্ট তাদের শারীরিক শক্তি ফিরে আসার জন্য।

তবে মনে রাখতে হবে ৮ ঘন্টা হলো এভারেজ টাইম। তো বন্ধুরা আপনার শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী কতঘন্টা যুমানো উচিত তা আপনি নিজেই ঠিক করে নিন।

পানি এবং বিদ্যুৎ

আমরা সবাই মনে করি যে, পানি এবং বিদ্যুতের কম্বিনেশন মারাত্মক বিপজ্জনক। কিন্তু বন্ধরা আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন যে, পানি নিজে থেকেই বিদ্যুৎ পরিবাহি পদার্থ নয়। আমরা যদি বিশুদ্ধ পানির কথা বলে থাকি তাহলে, বলতে হবে বিশুদ্ধ পানির অনুর কোনো চার্জ থাকে না। আর তাই বিশুদ্ধ পানিতে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় না।

এই ধরনে তরল পদার্থকে ডায়োলেক্ট্রিক বলা হয়ে থাকে এবং এটা মারাত্বক বিপজ্জনকও নয়। কিন্তু বন্ধুরা এধরনের পানি সত্যি খুবই দুর্লভ। দূষিত পানি বা যে পানিতে কিছু মিশে থাকে সেই পানি বিদ্যুৎ পরিবাহি হয়ে মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

ইউরিনেটিং অন এ জেলিফিস স্টিং

একটি টিভি-শো তে দেখানো হয় কয়েক বন্ধু মিলে সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নামে। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের এক মেয়ে বন্ধুকে জেলি ফিস কামর দেয়। আর সেই কামরের যন্ত্রনা কমানোর জন্য কামরের জায়গায় এক বন্ধু সেখানে ইউরিন ত্যাগ করে। সাথে সাথে সেখানকার যন্ত্রনা কমে যায়।

এই শো টি দেখার পরে বহির্বিশ্বের মানুষের মাথায় এই ধারনাটি চলে আসে। এখন তারা এটাকেই সত্যি বলে মনে করে। কিন্তু বন্ধুরা বাস্তবতা কোনো টিভি-শো নয়। কারন ইউরিন কোনো ভাবেই জেলি ফিসের বিষকে নিশক্রিয় করতে পারে না।

আর তাই জেলি ফিসের কামরের ক্ষততে যদি ইউরিন ত্যাগ করা হয় তবে সেখানে খারাপ প্রতিক্রিয়ারই সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বাদুর অন্ধ

আপনাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, বাদুর খুব ভালোভাবে দেখতে পারে না বা অন্ধ। কিন্তু বন্ধুরা এই ধারনাটা সম্পূর্ন ভুল। বাদুর মানুষের মতো তাদের চোখ সম্পূর্ন ভাবে খুলতে পারে না।

বাদুর দুইটি পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখে থাকে। এক পদ্ধতিতে তারা দিনে দেখে থাকে, আর অপর পদ্ধতিতে রাতে দেখে থাকে। দিনে এবং রাতে তারা দুই রকম ভাবে দেখে থাকে। তবে  বাদুরকে অন্ধ বললে সম্পূর্ন ভুল হবে। কারন বাদুর সামান্য হলেও চোখে দেখতে পায়।

তবে বাদুর দূরের পথ চলার জন্য শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে থাকে।