গুগল সম্পর্কে অবাক করা কিছু তথ্য!

Information About Google

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ কোনটি? থাইল্যান্ডের মায়া সমুদ্র সৈকত ভ্রমনে কেমন খরচ হয়? বর্তমানে প্রতিদিন কি পরিমানে খাবার নষ্ট হচ্ছে? অথবা ”ভালোবাসি” এর জাপানি বা পর্তুগিজ শব্দটি কি?

মুহূর্তে মধ্যেই এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর আপনাকে কে জানাতে পারে? এই সকল প্রশ্ন শুনে যে নামটি আপনার মাথায় এসেছে তা নিশ্চই গুগল। সম্প্রতি সার্চ ইঞ্জিনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ কোটি অনুসন্ধানের অনুরোধ তারা পাচ্ছেন।

অনবরত যার উত্তরও দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া অনুরোধের উত্তর দিতে গুগলের রয়েছে বেশ কয়েকটি ডাটা সেন্টার যার সংখ্যা বাড়ানোও হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যে আরো ১৪টি ডেটা সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকেও হঠাৎ কোন তথ্য জানতে হলে আমরা ছুটে যেতাম পাঠাগারে। সেখানে সারি সারি বই আর সংবাদ পত্রের ভাজে হন্যে হয়ে খুঁতে হতো কাংখিত তথ্য। তবে গেল বিশ বছরে সে চিত্রের পরিবর্তন এসেছে।

গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে যদি হঠাৎ জানতে মন চায় ”ভালোবাসি” এর জাপানি বা পর্তুগিজ শব্দটি কী? গধুলি বেলায় হাটতে হাটতে উরন্ত মনে যদি মনে হয় থাইল্যান্ডের মায়া সমুদ্র সৈকত ভ্রমনে খরচ কেমন? অথবা রাতে খেতে বসে জ্ঞান পিপাসু মস্তিষ্ক যদি জানতে চায় পৃথিবীতে প্রতিদিন কি পরিমান খাবার নষ্ট হয়? কিংবা বন্ধুদের সাথে আডডা দেওয়ার ফাকে প্রশ্ন আসে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দটি কী?

এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন নিশ্চই বিছানা খাবার কিংবা আডডা ছেড়ে আপনি নিশ্চই পাঠাগারের দিকে দৌড়াচ্ছেন না। খুব ধীরে সুস্থ্যে হাতের নাগালে থাকা স্মার্ট ডিভাইসেই ছুড়ে দিচ্ছেন প্রশ্নগুলো।

আপনার কাংখিত প্রশ্রের উত্তরও দিচ্ছে ইন্টারনেট। এই উত্তর দেয়ার তালিকায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে মার্কিন সার্চ ইঞ্জিন গুগল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রযুক্তি জাইয়ান্ট জানায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ কোটিরও বেশি অনুসন্ধানের অনুরোধ পাচ্ছেন তারা।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রন্ত থেকে পাওয়া অনুরোধের উত্তরও দিয়ে যাচ্ছে গুগল। মুহূর্তের মধ্যেই হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে বেশ কয়েকটি ডিজিটাল পাঠাগার স্থাপন করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। যেগুলোকে আমরা চিনি ডেটা সেন্টার নামে।

শক্তিশালী কম্পিউটার বার সার্ভারের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় একেকটি ডেটা সেন্টার। অনেক গুলো সার্ভারের নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য গ্রহন করে সেগুলো। এরপর বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করনের পর অনুসন্ধান ক্বারীর সামেন উপস্থান করা হয় অনুসন্ধান কারীর কাংখিত তথ্য।

গ্রাহকদের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামা, আইওয়া, জর্জিয়া, অরিগন, সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনা সহ মোট ৬টি অফিসে ডেটা সেন্টার রয়েছে গুগলের। এছাড়া ফিনল্যান্ড বেলজিয়াম, হংকং ও সিংগাপুরে আরো চারটি ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে গুগলের আন-অফিসিয়াল বা ভাঁড়া ডেটা সেন্টারের সংখ্যাও কম নয়। ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন, ইলিনয়, টেক্সাস, ফ্লোরিডা সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে মোট ১৩টি আন অফিসিয়াল ডেটা সেন্টার রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়া কানাডা, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, নেদার-ল্যান্ডস্, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, রাশিয়া, ভারত, চীন, জাপান ও অষ্ট্রেলিয়ায় রয়েছে মোট ১৮টি আন অফিসিয়াল ডেটা সেন্টার।

বিশ্বে মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে তথ্য অনুসন্ধানের সংখ্যাও। বাড়তি চাহিদা পূরনে কার্যক্রম সম্প্রসারন করতে চলেছে গুগল। সেই ধারাবাহিকতায় ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বড়ানোরও উদ্যোগ নিয়েছে এই মার্কিন প্রযুক্তি জাইয়ান্ট।

চলতি বছরে লস্ এঞ্জেলস্, নিউইয়র্ক, টেক্সাস, নেভাডা, ওহাইয়ো, নেভ্রাক্সা, ভার্জিনিয়, জর্জিয়া ও মিশিগানে মোট নতুন ১০টি ডেটা সেন্টার স্থাপন করবে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ডেটা সেন্টারে রূপান্তরিত হবে তাদের ওয়াশিংটন, শিকাগো, ওকলাহামা ও সাউথ ক্যারোলাইনা কার্যালয়।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে গুগল। এর সম্পূর্ন অর্থ সরবারহে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাদের প্যারেন্ট অরগানাইজেশন অ্যালফাবেট। সেবার মান উন্নয়নে ২০১৮ সালে ২৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর বিপরীতে আয়ের প্রবৃদ্ধি ২৩ শতাংশেরও বেশি। আর বিগত বছর ২০১৯ সালে ৩০০০ কোটি মার্কিন ডলার মুনাফা করে প্যারেন্ট অরগানাইজেশন অ্যালফাবেট।