আগামী ৫০ বছর পর কোন অবস্থায় গিয়ে ঠেকবে আমাদের এই প্রযুক্তি?

After 50 Years

সময়ের স্রোতে প্রতিদিনই এগিয়ে চলেছে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। স্মার্টফোন হচ্ছে আরো স্মার্ট আর আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স আরও বেশি বুদ্ধিমান। তবে প্রতিনিয়ত আরো ছুটে চলতে গিয়েও ক্ষতির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

এমন অবস্থায় কেউ যদি আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পরের দুনিয়ায় পৌছে যায় তাহলে কেমন হবে সেই পৃথিবী। তখন কি সবকিছুই চলে যাবে রোবটদের দখলে? আমরা কি তখনো এই গ্রহে বাস করবো? নাকি এখনকার সাইন্স ফ্রিকশন গুলোতে যেমনটা দেখা যায় ঠিক তেমনি ভাবে পৃথিবীর বাহিরে খুঁজতে হবে নতুন কোনো ঠিকানা?

কখনো আপনার ফোনটিকে খেয়াল করে দেখেছেন? গত ১০ বছরে কত আমূল পরিবর্তন এসেছে এই প্রযুক্তিতে। ভাবতে পারছেন কি আগামী ৫০ বছর পর কোন অবস্থায় গিয়ে ঠেকবে এই প্রযুক্তি। আজ থেকে ৫০ বছর পরে গিয়ে আমরা হয়তো হাসবো যে কিভাবে ফোন হাতে ধরে থাকতাম আমরা।

কত ব্যাকগ্রেটেডই না ছিল আমাদের প্রথম দিককার ফোন। তখনো হয়তো স্মার্ট ওয়াচ আমাদের সাথে যুক্ত হবে কন্টাক্ট লেন্সের মাধ্যমে। ভাবুনতো ড্রাইভিংয়ের সময় চোখের সামনেই জিপিএস থাকবে। বারবার নিচে তাকিয়ে ফোনে জিপিএস দেখতে হবে না। অবশ্য এসব সুবিধার সাথে থাকবে অনেক অসুবিধাও।

আপনার মনে হতে পারে যে ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে ৫০ বছর সামনে চলে গেলে হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু ভুল তখন মানুষের গড় আয়ু হবে ৮০ থেকে ৯০ বছর। এখনকার থেকে যা কম করে হলেও দশ বছর বেশি।

১৯৬০ এর দশকে আমাদের জনসংখ্যার শতকরা হার ছিল পিরামিডের মতো। কিন্তু আগামী ৫০ বছর পর এটা হবে আয়তক্ষেত্রের মতো। অর্থ্যাৎ বৃদ্ধ আর শিশুর সংখ্যা হবে সমানুপাতিক। যার বড় প্রভাব পড়বে অর্থনিতীতে।

তখন বয়োজেষ্ঠরা অবসরে জাবেন দেরীতে। সিনিয়র হোম গুলো থাকবে পরিপূর্ন আর অনেক বেশি চাকরি প্রত্যাশি থাকায় বেকারত্ব বাড়বে মারাত্মক হারে। স্কুল পাস করেই আলাদা থাকতে শুরু করবে সন্তানরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই করে দিবে দৈনন্দিন প্রায় ৮০০ মিলিয়ন কাজ।

২০৩০ সালে জনসংখ্যা হবে ৯ বিলিয়ন। এত বিশাল পরিমান মানুষের খোড়াগ জোগাতে দেখা দেবে খাদ্য সংকট। বৈরি আবহাওয়ার কারনে ফসল ফলানোও সহজ হবে না। ৭০ ভাগ মানুষ বাস করবে শহরে বাড়বে ভিড়। বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ মারাত্মক হারে ছড়িয়ে পড়বে।

বাদ যাবে না পরিবেশও আমাজন রেইন ফরেস্ট হয়ে পড়বে গাছপালা হীন। আগামী ৫০ বছরে যার অর্ধেকই হারিয়ে যাবে। জলবায়ু ও পনিবর্তন ও উচ্চ তাপমাত্রার কারনে পোলারাইছের ৫০ শতাংশ হাড়িয়ে যাবে। লোহিত সাগর বা ডেড-সি নিজের নামের সার্থকতা পূরন করবে। অর্থ্যাৎ শুকিয়ে যাবে এটি।

ভাবছেন ভ্রমন করবেন নিউঅরলিন্স, মায়ামি বা হিস্টনের মতো মার্কিন শহর গুলোতে। তাহলে অনেকটা ভাগ্যের ওপরে নির্ভর করতে হবে আপনাকে। কারন সেসময় হারিকেনের মাত্রা ও ভয়াবহতা দুটোই বাড়বে। পানির উচ্চতা বাড়ায় পরিত্যাগ করতে হবে গল্ফ-কোষ্টও।

তবে এখানেই শেষ নয় ৫০ বছর পর হয়তো পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র জায়গা হবে না। বসবাসের জন্য মঙ্গলে পারি জমাতে শুরু করবে মানুষ। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষকে সফর করাতে নিয়ে যাবে সৌরজগতের তারাদের দেশ।

প্রক্সিমা সেন্টারোবি প্লানেট হবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু। কারন সেখানেই রয়েছে মানুষের জীবন ধারনের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা। সেখানে যদি এলিয়েনদের দেখা পাওয়া না যায়, তাহলে মানুষই দখল করে নিতে শুরু করবে গ্রহটি।

এতো গেলো বিশ্বের কথা কিন্তেু আপনার সাথে কি হবে? প্রথমত তখন আর নিয়মিত সাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে না। কারন হাতেই থাকবে এমন একটি ডিভাইস, যা দ্বারা নিজেই নিজের স্ক্যান করানো যাবে যেকনো রোগের।

বডি টেম্পারিং পেয়ার সিং বা ট্যাটুর প্রতি তেমন আকর্ষন থাকবেনা মানুষের। উল্টো মানুষ ছুটবে সাইবার নোটিক চোখের দিকে। যার সাহায্যে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি তো বটেই আপনি এমন জিনিসও দেখতে পাবেন যা খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। যেমন রেডিয়েশন।

শুধু তাই নয় টাকা হাতে থাকলে আপনি বাবা-মা হতে পারবেন ডিজাইনার বেবির। অর্থ্যাৎ আপনি যেমন সন্তান চান তেমনি করিয়ে নিতে পারবেন প্রযুক্তি দিয়ে। সবচেয়ে স্মার্ট হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট গুলো।

এগুলো এতটাই আপডেটেড হবে যে একসময় তারা মানুষের কল্পনার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হবে।

এখন প্রশ্ন আসে, আপনি কি আসলেই পঞ্চাশ বছর সামনে যেতে তৈরি। যদি না হয়ে থাকেন তাহলে বর্তমানেই বাস করতে থাকুন। সময়ই আপনাকে করে নেবে ভবিষ্যতের উপযোগী করে।

কিন্তু কে জানে তখন হয়তো মানুষ এধরনের হাইপোথেটিক কোনো চিন্তা নিয়েই বসে থাকবেনা। তালে তাল মিলিয়ে চলবে সময়ের সাথে, এগিয়ে যাবে বিশ্ব। বাড়বে কৃত্রিমতার চাহিদা, হুমকির মুখে পড়বে পরিবেশ।