স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে এই ৬টি কাজ করুন | পড়া মনে থাকবেই

এখনকার দিনে প্রত্যেকটা মানুষজনই স্বাস্থ্য সচেতন। প্রতিদিন ওয়ার্ক-আউট করেন, দারুন দারুন খাবারও খান এবং ভালো ভাবে লাইফস্টাইটাকে মেনে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ভুলে যান যে, তাদের ব্রেইনেরও একটা এক্সারসাইজের দরকার হয় এবং সেটা কেউই করেন না।

6 Ways to Increase Our Memory

যদি আপনি ছোট খাটো জিনিস গুলোকে ভুলে যেতে থাকেন বা স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায় তাহলে তো অবশ্যই এগুলো করা উচিত আপনার। আপনাকে দেওয়া কোনো কাজ আপনি চট করেই ভুলে যান, তাহলে আশা রাখছি আজকের এই পোষ্টটি পড়ার পর থেকে সেটা আর হবে না। 

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি অপনার স্মৃতিশক্তিকে আরো উন্নত ও শক্তিশালী করবেন:-

 ১.

আমার দেওয়া প্রথম ট্রিকস টি হলো আপনি বই পড়ুন বা অন্য কিছু কিন্তু সেটা জোরে উচ্চারন করে পড়ুন। ২০১৭ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রুপকে নিয়ে রিসার্চ করা হয়। সেখানে কিছু সংখ্যক গ্রুপের শিক্ষার্থীরা মনে মনে পড়তো এবং সবসময় নিশ্চুপ থাকতো আর বাকিরা উচ্চস্বরে আওয়াজ করে, উচ্চারন করে পড়তো।

পরবর্তী সময়ে জানতে চাওয়া হলো যে কে কী পড়লেন আর কে কী শিথলেন। তখন দেখা গেলো যারা মনে মনে পড়েছিল তারা অনেক কিছুই ভুলে গেছে। এবং যারা জোরে জোরে পড়েছিল তারা অনেক কিছুই ঠিকঠাক বলতে পেড়েছিল।

তাই যখনই আপনি কিছু বলবেন জোরে জোরে এবং আপনার কথাটাই নিজ কান দিয়ে শুনবেন তখন সেটা ১০০ ভাগ মনে থাকার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। আপনি এটাকে প্রাকটিস করতে পাড়েন প্রতিদিনই। জোরে জোরে কথা বলুন সেটা আপনার মনে থেকে যাবে। কিন্তু মনে মনে কথা বলুন, পরবর্তী সময়ে আপনি সেটা একদমই ভুলে যাবেন। 

 ২.

দ্বিতীয়ত আপনি আপনার দৈনন্দিন কাজে হাতের পরিবর্তন করুন। না না হাত সরিয়ে নতুন হাত লাগাতে বলিনি। বলছিলাম যে কাজটা আপনি ডান হাতে করছেন সেটাকে বাম হাতে করার চেষ্টা করুন আর যেটা বাম হাতে করছেন সেটাকে ডান হাতে করার চেষ্টা করুন।

আমাদের এই পৃথিবীতে মাত্র ১ শতাংশ মানুষই বাম হাতে কাজ করতে পারে। আরা বাদ বাকি সকলেই ডান হাতে কাজ করি আমরা। বিভিন্ন কাজ রয়েছে যেমন ধরুন: গোসল করা, খাওয়া, রান্না করা, শবজি কাটা ইত্যাদি সকল কাজ আমরা ডান হাত ব্যাবহার করেই করে থাকি।

তবে যদি হাতটাকে পরিবর্তন করে কিছু করার চেষ্টা করেন তাহলে আপনার ব্রেইনের নিউরো কানেকশন গুলো আরো স্টেবল হবে ও আরো শক্তিশালি হবে। যা আপনাকে মনে রাখতে সাহায্য করবে। অর্থ্যাৎ সেই কাজটা আপনি সহজেই মনে করতে পারবেন।

সব থেকে ভালো হবে যখন আপনি দাত ব্রাশ করবেন তখন আপনার বাম হাতটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন অথবা যারা বাম হাত দিয়ে যারা কাজ করেন তারা ডান হাত ব্যবহারের চেষ্টা করুন। আবার যখন কোনো কিছু ওয়াস করবেন তখন আপনার বাম হাত ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

কিন্তু হ্যাঁ যখন গাড়ি চালাবেন তখন কিন্তু বাম হাত ব্যাবহার করতে যাবেন না তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। বিশ্বাস করুন প্রথম প্রথম খুবই কঠিন লাগবে বাম হাতে কাজ করতে। তবে অনেক ভালো লাগবে আপনাদের।

৩.

তৃতীয়ত যেটা আপনাদের বলবো সেটা হলো মোটামুটি সপ্তাহে অন্তত তিন দিন Aerobic Exercise (বায়ুজীবী ব্যায়াম)করুন। তাহলে আপনাদের ব্রেইনের হিপো-ক্যাম্পাসের সাইজটা বাড়বে। এটি মস্তিষ্কের এমন একটা স্থান যেটা নিত্য নতুন ইনফরমেশন গুলোকে নতুন মেমোরিতে কনভার্ট করে।

২০১১ সালে একটি স্টাডি করা হয়, সেখানে বলা হয় যে এই Aerobic Exercise (বায়ুজীবী ব্যায়াম) গুলো আপনার হার্ট রেটটাকে বাড়ায়। যার ফলে আপনাদের মেমোরিটাও আরো শক্তিশালী হয়। তবে হ্যাঁ জ্বীমের কথা আমি বলছি না।

আপনারা সকাল বেলা Morning Walk, Jogging বা দৌড়াদৌড়িও করতে পারেন। তাহলে আপনাদের সবথেকে ভালো কাজ হবে। মনে রাখবেন প্রতিদিন ২০ মিনিট আর সপ্তাহে তিন কমপক্ষে তিন দিন ব্যায়াম করার চেষ্টা করবেন।

৪.

চতুর্থ বিষয় যেটা বলবো সেটা হলো, কারো সম্পর্কে প্রায় ৪ থেকে ৫টা Details মনে রাখার চেষ্টা করুন। এটাকে বলা হয় Basic Memory Training.

এই ক্ষেত্রে যখন আপনি বাহিরে থাকবেন তখন যাকেই দেখবেন অথবা যেকোনো একটা মানুষের সম্পর্কে ৪ থেকে ৫টা বা আরো বেশি Details মনে রাখার চেষ্টা করুন। এই যেমন ধরুন তার চুলের স্টাইল কেমন ছিল, চশমার কালার কেমন ছিল বা সে কি রঙ্গের শার্ট পড়েছিল অথবা তার সম্পর্কে অন্য যেকোন তথ্য।

কিন্তু সেই সকল তথ্য, যেগুলো আপনি আপনার মেমোরিতে ধারন করেছিলেন সেগুলো পুনরায় মনে করার চেষ্টা করুন। প্রথম দিকে একজন মানুষের সম্পর্কে এরকম মনে রাখার চেষ্টা করবেন তারপর প্রতিনিয়ত দুটো, চারটে, পাঁচটা মানুষের সম্পর্কে মনে রাখতে থাকবেন একটা সময় দেখবেন আপনি যখন যেটাই দেখছেন সেটাই আপনার মনে থাকছে।

৫.

পঞ্চম বিষয়টা অনেক মজাদার একটি বিষয়, কিছু মনে রাখতে গেলে হাতের মুঠি বন্ধ করুন। ২০১৩ সালে একটি স্টাডি করা হয়, সেখানে বলা হয় ৯০ সেকেন্ড সময় যদি ডান হাতটি মুঠো করে রাখা হয়। তাহলে নতুন মেমোরি ফর্মেশনে অনেক সাহয্য হতে পারে।

আর যদি বাম হাত ৯০ সেকেন্ড সময় ধরে মুঠো করে রাখা হয় তাহলে আপনার পুরোনো জিনিস গুলোকে খুব তারাতারি মনে করতে পারবেন।

এই প্রকিয়াটির রিসার্চ করা জন্য ৫০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে বলা হয় কিছু শব্দ শুনে মনে রাখতে। যারা সেই শব্দ গুলো শোনার সময় এধরনের মুভমেন্ট গুলো হাত দিয়ে করেছিল তারা সহজেই অনেক গুলো শব্দ মনে রাখতে পেরেছিল মাত্র একবার শুনেই।

মেমোরি প্রসেসিংয়ের জন্য রেসপন্সিবল মস্তিষ্কের কিছু অংশ একটিভেট হয়ে যায় এই কাজটা করলে এটাই সাইন্টিষ্টরা বলেছিল রিসার্চ করে। তো এটার বেনিফিট আপনিও নিতে ভুলবেন না।

৬.

তাহলে সর্বশেষ যে ট্রিকস টা দিতে চলেছি সেটা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। আপনি হয়তো বিদ্যালয়ে শুনে থাকবেন ক্লাসের সময় স্যার বা ম্যাডাম বলতেন যা বলছি সেটা সাথে সাথে খাতায় লিখে নাও। এটা এ জন্যই যে কোনো একটা জিনিস শোনার সাথে সাথে লিখলে তা বেশি সময় ধরে মনে থাকে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যায়ে একটি রিসার্চ করা হয়, আর সেখানে দুটো গ্রুপের মানুষকে একটা রেকর্ডিং শুনতে বলা হয়। প্রথম গ্রুপের মানুষদেরকে শুধুমাত্র রেকর্ডিং টা শুনতে বলা হয়। আর দ্বিতীয় গ্রুপের মানুষদেরকে রেকর্ডিং শোনার সাথে সাথে হাতে করে কিছু আঁকতে বলা হয়েছিল।

এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তারা কি শুনল তার উপর একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে তারা যে সকল নাম এবং ঠিকানা সম্পর্কে শুনেছিল তা তাদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়।

এই সময় যারা রেকর্ডিং শুনতে শুনতে হাতে করে কিছু একেছিল তারাই প্রথম দলের থেকে ২৯ শতাংশ বেশি মনে রাখতে পেরেছিল। কারন আমরা যখন কোনো কিছু শুনি তখন মনে মনে অন্য কিছু চিন্তা ভাবনা করতে থাকি সেটাকে বলা হয Day Dreaming.

আর সেটাই বিভিন্ন বিষয়কে আমাদের মন থেকে মুছে ফেলে। ফলে আমরা আমরা অনেক কিছুই মনে রাখতে পারি না এবং খুব সহজেই তা ভুলে যাই।

আমাদের শেষ কথা

বন্ধুরা আজকের এই বিষয় গুলির মধ্যে কোন বিষয়টি আপনাদের কাছে সেবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তা আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আর এই পোষ্টটি পড়ে যদি আপনাদের সামান্যতম লাভও হয়ে থাকে তাহলে এই পোষ্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments